Wednesday, October 21

গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি বা প্যারোল দেওয়ার আবেদন করেছে তার পরিবার। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বিধান নেই।

বুধবার চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এ আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, ‘স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির বিধান আছে। অসুস্থ অবস্থায় কাউকে দেখার জন্য প্যারোল পাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তাদের পরিবারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের প্যারোল-সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিকটাত্মীয়, যেমন বাবা, মা, স্ত্রী বা সন্তানের মৃত্যু হলে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বা শেষ বিদায় জানাতে বন্দিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের প্যারোলের সময়সীমা ১২ ঘণ্টার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানান, তাদের তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট। তাদের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের বয়স ৭১ বছর। তিনি হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

রঞ্জন কুমার ধর বলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন, আমার মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। গত শনিবার থেকে উনাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। যখন কিছুটা কথা বলতে পারছিলেন, তখন আমার মা তাকে একবার দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য শেষবারের মতো মাকে দেখতে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাবেক সংগঠক এবং সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন চিন্ময়। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ওই সময় আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলাতেও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাসহ চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। বাকি পাঁচটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
38 + = 42