আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ ধারার ৩ উপধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরে আর তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বিধান যেকোনো আসামির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, পলাতক কিংবা কারাগারে থাকা যেকোনো আসামিকে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে ওই আসামির পক্ষে আপিল করার সুযোগ থাকবে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা শহীদ পরিবারের মধ্যে বণ্টনের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ আগেই দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন কীভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন সংস্থা তা কার্যকর করবে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ কীভাবে শহীদ পরিবারের মধ্যে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সম্পদ বাজেয়াপ্তের এখতিয়ার থাকলেও কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, কোন সংস্থা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে এবং পরে তা কীভাবে শহীদ পরিবারকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধি নেই। আইন সংশোধন করে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শেখ হাসিনা মোট ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেখিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ৫৫ লাখ টাকার এফডিআরের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল।
জানা গেছে, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে রয়েছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আযাদকে ‘আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণ’-এর যে সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে সাজা স্থগিতের বিষয়ে সরকারের এখতিয়ার রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

