লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে দেশি ধারালো অস্ত্রসহ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত এক নেতাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার আউলিয়ার হাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে বিজিবির দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
আটক ব্যক্তির নাম আতিক হাসান (২৫)। তিনি পাটগ্রাম থানার পশ্চিম শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি এবং সীমান্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা বজলার রহমানের ছেলে।
৬১ বিজিবি (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) সূত্র জানায়, ভোরে ব্যাটালিয়নের অধীন পঁয়ষট্টি বাড়ি বিওপির একটি টহল দল বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের মেইন পিলার ৮৪৬-এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। এ সময় অভিযান চালিয়ে আতিক হাসানকে আটক করা হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যায়।
আটকের সময় আতিকের কাছ থেকে প্রায় ২ ফুট ২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২ ইঞ্চি প্রস্থের একটি দেশি লম্বা ধারালো ছুরি (চাকু) এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি অতীতেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, বর্তমানে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে।”
বিজিবির পক্ষ থেকে শনিবার দুপুরে আতিক হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে তাঁকে পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবির দায়ের করা মামলায় আতিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আগামীকাল রোববার তাঁকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করা হবে। পালিয়ে যাওয়া অন্য দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পাটগ্রাম সাংগঠনিক পূর্ব থানা শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আলমগীর খোরশেদ বলেন, “আতিক হাসানের সঙ্গে গত চার বছর ধরে সংগঠনটির কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে ২০২১ সালে বহিষ্কার করা হয়।”

