Friday, January 16

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যার পর খুনিদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, খুনিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। তাকে সহায়তা করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করার বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আলমগীর শেখ আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী।

তদন্তে পাওয়া তথ্যমতে, ঘটনার রাতেই ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা ত্যাগ করেন। একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে অবৈধভাবে তারা ভারতে পালিয়ে যান। এই পুরো সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করেন যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম। তিনি তখন নিজে ভারতে অবস্থান করলেও দূর থেকেই পালানোর নির্দেশনা দেন।

সূত্র আরও জানায়, হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অর্থের বিনিময়ে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন দালাল সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফিলিপ স্নাল। তার বাড়ি সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।

তদন্তে উঠে আসে, শহীদ হাদিকে গুলি করার কিছুক্ষণ পর তাইজুল ইসলাম ভারত থেকে তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলামকে ফোন করে জানান, তিনি ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ সময় আমিনুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন দ্রুত ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই রাতেই দুই ব্যক্তিকে সীমান্ত পার করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আমিনুল ইসলাম পরে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বার্তাটি পৌঁছে দেন এবং বিষয়টি তাইজুলকে নিশ্চিত করেন। এরপর তাইজুলের নির্দেশে আমিনুল তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিপের কাছে ৫ হাজার টাকা পাঠান। ওই অর্থের বিনিময়েই ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
33 − = 32