Sunday, October 25

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-সাজেক সড়কে তৃতীয় দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। অন্যদিকে, সাজেকে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা আধাবেলার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। এর মধ্যেই শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে অবরোধের সমর্থনে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় অস্ত্র হাতে একদল লোকের মহড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে সেনাবাহিনীর ড্রোনে। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে উজোবাজারে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, থেমে আছে যান চলাচল। অবরোধের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সাজেক।

সাজেকে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অবরোধের সমর্থনে শনিবার সকাল থেকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে দুপুর পর্যন্ত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। বন্ধ ছিল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে অবরোধের প্রভাব পড়েনি রাঙামাটি শহরে। সেখানে যান চলাচল ও নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। অবরোধের সমর্থনে সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের ১০ নম্বর এলাকা, মাচালং ১৪ কিলো ও মারিশ্যা ১১ কিলোসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর থেকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবারও খোলেনি কোনো দোকানপাট। সড়কে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তবে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, তাঁদের দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের চলাচলে জেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। ফলে পর্যটকশূন্য রয়েছে পুরো পর্যটন এলাকা।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুল রকিব বলেন, উজোবাজারের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে যানবাহন চলাচল করছে না।

গত বুধবার বিকেলে সাজেকে জেএসএসের নাম ব্যবহারকারী সশস্ত্র ব্যক্তিরা অবস্থান করছে, এমন অভিযোগ তুলে তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সাজেক থেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা প্রহরায় (এসকর্ট) খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে বাধা দেন অবরোধকারীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই উজোবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবরোধকারীদের ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার; ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজোবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে হওয়া ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনায় আহত নারী-পুরুষের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ।

এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন অবরোধকারীরা।

Leave A Reply


Math Captcha
80 − = 75