Tuesday, October 20

রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) মা’রা যাওয়ার ঘটনায় আটক কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

৮ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে কিশোরের পক্ষে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তিনি আদালতকে বলেন, ঘটনার সময় গাড়িচালক কৌশলে বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়ে যান এবং ওই কিশোর নির্দোষ। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে জামিনে আপত্তি নেই।

আইনজীবী আরও বলেন, অভিযুক্ত কিশোর শিশু এবং সে ১২ দিন ধরে হাজতে রয়েছে। তাই সে জামিন পাওয়ার অধিকারী।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং কিশোরটির গাড়ি চালানোর অনুমতি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।

এ সময় বিচারক প্রশ্ন করেন, শিশুর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে কি না। জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে ওই কিশোর ছিল না।

শুনানিতে বিচারক বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে কিশোরকে গাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া হলে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা এ ধরনের ঘটনায় ছাড় পাওয়ার একটি নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। সেদিন তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন আংশিক শুনানি শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

যেভাবে ঘটে ঘটনা

গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে প্রাইভেটকারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) মা’রা যান। তিনি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃ’ত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদির ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি; গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে উপস্থিত লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রথমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে কিশোরের সম্পৃক্ততার কথা জানায়।

এরপর তাকে আইনের সংস্পর্শে এনে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আদালতের আদেশে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 62 = 70